ঐতিহাসিক জিতু মিয়ার বাড়ি

ঐতিহাসিক জিতু মিয়ার বাড়ি, সিলেট।

প্রকৃতিকন্যা সিলেট মানেই অবারিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তবে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয় সিলেটে দেখার মত ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যও কম নেই। 

তাই সিলেট ভ্রমণে গেলে প্রকৃতির সৌন্দর্যমন্ডিত স্থানগুলোর সাথে ঐতিহাসিক স্থানগুলোও দেখতে ভুলবেন না। সিলেটের অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হল জিতু মিয়ার বাড়ি।

সিলেট শহরের শেখঘাটে কাজিরবাজার সেতুর উত্তর দিকে ঐতিহ্যবাহী জিতু মিয়ার বাড়ি টির অবস্থান। ১ দশমিক ৩৬৫ একর ভূমি জুড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই জিতু মিয়ার বাড়ি। চুন সুরকি দিয়ে নির্মিত মুসলিম স্থাপত্য কলার অনন্য নিদর্শন এ বাড়ি। 

এটি নির্মাণ করেন খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওরফে জিতু মিয়া। ১৯৯১ সালে এ বাড়ির সামনের দালানটি নির্মাণ করা হয়।

খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওরফে জিতু মিয়া প্রথম জীবনে কিছু দিন সাব রেজিস্টার ছিলেন। ১৮৯৭ থেকে ১৯০৩ সাল পযর্ন্ত তিনি সিলেট পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, ছিলেন অনারারী ম্যাজিস্টেটও । 

জিতু মিয়ার পরিবারের বিলাসী জীবনযাপনের নানান কথা লোকমুখে এখনো শোনা যায়। প্রতিদিন নানান প্রয়োজনে গ্রাম থেকে শহরে আসা শত শত মানুষ জিতু মিয়ার বাড়িতে আসত এবং সবসময়ে এ বাড়িতে লোকসমাগম থাকত।

কথিত আছে, সে সময়ে এ বাড়ীর সুসজ্জিত ড্রয়িংরুমে তুরস্কের পাশাদের ছবি, রুশ তুরস্কের যুদ্ধের চিত্র ব্রিটিশ রাজ পরিবার ও রাজপুরুষদের আলোক চিত্র শোভা পেত। 

কাচারী ঘরের ডান দিকের একটি কক্ষে সে সময়কার একটি লম্বা কালো টেবিল ও ২০টি চেয়ার এখনও অক্ষত রয়েছে।

এ বাড়ির রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব। উপমহাদেশের খ্যাতনামা অনেক বরেণ্য ব্যক্তি বর্গ এ বাড়িতে  বসে গুরুত্বপূর্ণ সভা করেছেন। 

অলিকুল শিরোমণি দেওবন্দ মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওয়ালা মদনীর (রহ)র আগমন ঘটেছে এ বাড়িতে। তার পুত্র আসআদ মদনীরও আগমন ঘটেছে এখানে অনেকবার। 

এছাড়াও এ বাড়িতে শুভাগমন করেছেন আসামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার সাদ উল্লাহ ভারতের সাবেক আইসিএস খান বাহাদুর গজনফর আলী খান পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, আল্লামা সহুল আহমদ উসমানী, পল্লী কবি জসীমউদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীসহ ইতিহাসের অনেক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।  

এ বাড়িতে এসে তারা শুধু এ বাড়ীর মহিমা বাড়াননি তার সাথে সিলেটের ইতিহাসকেও সমৃদ্ধ করেছেন। নানান সংস্কার ও পরিবর্তনের মাধ্যমে ধরে রাখা হয়েছে  শত বছরের ইতিহাসের সাক্ষী এ বাড়িটিকে।

যেভাবে যাবেন: ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ, গাবতলি ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। 
ঐতিহাসিক জিতু মিয়ার বাড়ি

এ পথে গ্রিন লাইন পরিবহন, এনা পরিবহন, সৌদিয়া এস আলম পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিস এর এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া পড়বে ৪০০ থেকে ১১০০ টাকা।

এছাড়া কমলাপুর রেইলওয়ে স্টেশন থেকেও আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস এ চড়ে যেতে পারেন সিলেটে। সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা।

এরপর সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই অটোরিকশা বা সিএনজিতে পৌঁছে যেতে পারবেন জিতু মিয়ার বাড়ি।

যেখানে থাকবেন: সিলেট শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। আপনার  প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনটিতে থাকতে পারেন। এসব হোটেলের বেশীরভাগ মাজার রোড, আম্বরখানা এবং জিন্দাবাজারে অবস্থিত। 

কয়েকটি পরিচিত হোটেল হল- হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা, কায়কোবাদ ইত্যাদি। এছাড়া লালা বাজার এলাকায় কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত রেস্ট হাউজ আছে।

Related

প্রচ্ছদ 8412620982183387530

সিলেট

সিলেট উত্তর পূর্ব বাংলাদেশের একটি প্রধান শহর, একই সাথে এই শহরটি সিলেট বিভাগের বিভাগীয় শহর। এটি সিলেট জেলার অন্তর্গত।

সুরমা নদীর তীরবর্তী এই শহরটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপুর্ণ শহর।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ শহরটি দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত।

শিল্প, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক ভাবে সিলেট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ধনি জেলা। wikipedia

সর্বমোট পাঠক

item